মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
মেয়র কার? আদালতের রায়ে বদলাতে পারে পুরো খেলা!
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার (২১ মে) দিন নির্ধারণ করেছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে দুপুর ১টায় শুরু হওয়া শুনানি চলে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী, পরে আবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে চলে সোয়া ৫টা পর্যন্ত। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। বিপরীতে ইশরাক হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন ও খান জিয়াউর রহমান।
মোহাম্মদ হোসেন তার বক্তব্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে একাধিক ‘কারিগরি ও আইনগত ভুল’ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রিটকারী একজন পেশাদার আইনজীবী এবং আইনের শাসনের স্বার্থে এই রিট করেছেন। তার ভাষ্য, মূল মামলায় ফলাফল বাতিলের আবেদন থাকলেও পরে আরজি সংশোধন করে ইশরাক নিজেকে মেয়র ঘোষণার দাবি জানান, যা নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে করা হয়নি। সাক্ষীর ক্ষেত্রেও ত্রুটি রয়েছে—আর্জিতে যাদের সাক্ষী করা হয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে অন্যজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারক আইন অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেননি।
অন্যদিকে, ইশরাকের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন রিটকারীকে ‘তাপস ও তার উপদেষ্টা আসিফের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন একটি বিশেষ আইন; যেখানে আরজি সংশোধন এবং সাক্ষী পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া কোনো তৃতীয় পক্ষের হাইকোর্টে এসে রিট করার সুযোগ নেই। রিটটি খারিজ করে রিটকারীর বিরুদ্ধে আদালতের সময় অপচয়ের জন্য খরচ আরোপের দাবি জানান তিনি।
দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত আদেশের জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেন।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ৪ লাখের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইশরাক হোসেন পান ২ লাখ ৩৬ হাজার ভোট। ফলাফল বাতিল চেয়ে ৩ মার্চ ২০২০ সালে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ইশরাক।
গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ২৭ মার্চ এক রায়ে তাপসের বিজয় বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন এবং ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সেই গেজেট প্রকাশ করে।
তবে একই দিন রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামের দুই ব্যক্তি ইশরাকের মেয়র ঘোষণা এবং গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিলের প্রস্তুতি নিতে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠান। তাদের মতে, ইসির উচিত ছিল রায় চ্যালেঞ্জ করা। কিন্তু না করেই তারা দ্রুত গেজেট প্রকাশ করেছে, যা ‘টার্ম-হীন’ একটি পদে গেজেট জারি করার অপচেষ্টা।
এরপর মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সেখানে ২৭ মার্চের রায় ও ২৭ এপ্রিলের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন ইশরাককে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়। সেই রুলের আলোকে রায় ও গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়।
এদিকে ইশরাকের সমর্থকরা তাকে শপথ পড়ানোর দাবিতে নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকদিন ধরে টানা কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রয়েছে নগর ভবন চত্বর।